মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার নয়ারচর গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন নয়াচর এলাকার গোলাম মওলা সরদার (৫৮) ও সাগর ব্যাপারী (১৯)। তাদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে গোলাম মওলা সরদারের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন একই এলাকার সাইদুল ব্যাপারী। পরে তিনি সাইদুলের কাছে টাকা ফেরত চান। স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নয়াচর গোলচত্বরে গেলে গোলাম মওলার ওপর হামলা চালায় সাইদুল ব্যাপারী ও তার লোকজন।
এ খবর নয়াচর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় সাইদুল ও গোলাম মওলার লোকজন। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন। এ ছাড়া হামলাকারীরা নয়াচর এলাকার আকবর মোল্লাসহ দুজনের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি আকবর মোল্লা বলেন, ‘আমি কোনো দলের না। তবু একদল লোক টেঁটা, রামদা দিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করে সব মাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি গরিব মানুষ, এখন কী করে খাব? আমি এর বিচার চাই।’
ওই হামলায় আহত হন গোলাম মওলা সরদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট ঠিক করতে টাকা নিয়ে সাইদুল কাজ করে নাই। টাকাও ফেরত দেয় নাই। টাকা চাইতে গেলে ও (সাইদুল) এলাকায় দাপট দেখাইতে আমার ওপর হামলা করেছে। আমার মাথা ও চোখে আঘাত করেছে। আমি ওর বিচার চাই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইদুর ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘কেউ আমার কাছে টাকা পায় না। এসব মিথ্যা অভিযোগের কথা বলে ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোলাম মওলা নিজে সন্ত্রাসী ও মাদকের কারবারে জড়িত। তিনি সংঘবদ্ধ হয়ে লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর আগে হামলা চালায়।’
নয়াচর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলে বুধবার সকালে জানান সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পক্ষই সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।