খুবই দরিদ্র একজন ভূমিহীন নারী সাহেরা। তার জন্মস্থান মধুপুর উপজেলায় হলেও তিনি থাকেন টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় । সাহেরা তার সঠিক বয়স বলতে পারেন না। আনুমানিকভাবে বলেন, তার বয়স ৫৫ বছর।
তার স্বামী শুক্কুর আলী ষাটোর্ধ বয়স্ক মানুষ, পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির হেলপার। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন কাজে যেতে পারেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে, দারিদ্রতার কারণে সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারেনি। ছেলে এবং মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তার ছেলেও পাশাপাশি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন এবং ভাড়াটে অটোরিকশা চালায়। তার ছেলের যে ইনকাম হয় তাতে করে তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে।
সাহেরা এবং তার স্বামী শুকুর আলী যেখানে থাকেন সেখানে ঘর ভাড়া দিতে হয় ২ হাজার ২০০ টাকা। সংসারের খরচ জোগাতে সাহেরা সারাদিন টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন পথে পথে ঘুরে প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে কুমুদিনী কলেজের কাছে একটি দোকানে বিক্রি করেন। বেশিরভাগ সময় বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে টাকা পেলে সেই টাকা দিয়ে বাজার করেন তারা। অভাব-অনটনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছে সাহেরার জীবন।
নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় সোনিয়া ক্লিনিকের পাশে সাহেরা বেগমের সঙ্গে দেখা হয় প্রতিবেদকের। তার জীবনের বাস্তব গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাত পেতে খাইনা, খেটে খাই। আমার স্বামী বয়স্ক মানুষ তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি কাজে যেতে পারেন না। যে পারিশ্রমিক পায় সেটাও খুব সামান্য। আমার ছেলে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে। তারও আয় রোজগার খুবই কম। মধুপুরে হাসিল পালবাড়ী এলাকায় আমার বাবার বাড়ি এবং স্বামীর বাড়িও কাছাকাছি। আমাদের জায়গা-জমি নাই, খুবই গরিব মানুষ আমরা। তাইতো পোলা- মেয়ারে পড়ালেখা করাইতে পারি নাই। টাঙ্গাইল শহরে আছি ১৬ বছরের উপরে। যে পরিমাণ রোজগার হয় সেটা দিয়ে ঠিকমত খাইতেই পারিনা তার উপরে ঘর ভাড়া দিয়ে থাকতে হয়। বাড়িঘর করার সক্ষমতা আমাদের নাই। সরকারি কোন সহযোগিতাও কখনো পাইনি। একটা আশ্রয়স্থল হইলে অন্তত জীবনটা পার করে দিতে পারতাম।’