টানা কয়েকদিন তাপপ্রবাহের পর দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে কিছু কিছু জায়গায়। ঝড়বৃষ্টির এই ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের সই করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ একে এম নাজমুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে একই দিক থেকে থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের সই করা আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
৪ দিন পর বাড়বে গরম
এদিকে আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় এই বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আর বৃষ্টিপাতের এই ধারা আগামী ২ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা এই সময়ের মধ্যে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
তবে আগামী শনিবার (২ মে) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিপ্তর।