আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা। জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ষাঁড় রয়েছে। যা জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলায়ও পশু সরবরাহ সম্ভব।
জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই খামারে ব্যস্ততা বাড়ছে। অধিক লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।
প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়,১৯৭৩ সালে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে এ খাত জেলার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে।
এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশুও লালন-পালন করা হচ্ছে।
শাহজাদপুর উপজেলার ভাই ভাই ডেইরি ফার্মের পরিচালক শাহান উদ্দিন বলেন, ‘ছয় মাস আগে ৩৪টি গরু কিনে মোটাতাজাকরণ শুরু করেছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গরুগুলোর পরিচর্যা করছি। খাদ্যের দাম বাড়লেও ভালো বাজারমূল্যের আশা করছি।’
ছোঁয়া মনি অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী হাজি আব্দুস সাত্তার জানান, তার খামারে ৬৫টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরুর স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
খান অ্যাগ্রোর পরিচালক নির্ঝর খান বলেন, প্রতি বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম প্রতি বস্তায় ৩ থেকে ৪শ টাকা বেড়েছে। এতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণের খরচ অনেক বেড়েছে। ভারতীয় গরু আমদানি বা চোরাচালান বন্ধ থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ‘চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে প্রায় ৬ লাখ ১৭ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। খামারিদের প্রত্যাশা, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে।’