মাগুরার সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামের একটি ছোট খামারে বেড়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লালু’। লাল রঙের শান্ত স্বভাবের এই গরুটিকে ঘিরে এখন এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড়।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি। খামারি এর দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশের একটি টিনশেড গোয়ালঘরে রাখা হয়েছে তিনটি বড় ষাঁড়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে পাকিস্তানি সাহিওয়াল ও ফ্রিজিয়ান সংকর জাতের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লালু’। প্রায় ১৪ দশমিক ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট উচ্চতার গরুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, এত বড় আকৃতির গরু এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। তাই ঈদ সামনে রেখে ‘লালু’ এখন এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
খামারের মালিক ছালেক বিশ্বাস জানান, ছোট পরিসরে পারিবারিকভাবে গরু পালন শুরু করলেও ভবিষ্যতে বড় খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তার ছেলে আশিক বিশ্বাসের আগ্রহ ও পরিশ্রমেই মূলত গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।
তরুণ খামারি আশিক বিশ্বাস বলেন, ‘শখ করেই গরুটির নাম রেখেছি ‘লালু’। প্রায় তিন বছর ধরে সন্তানের মতো করে গরুটিকে লালন-পালন করছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমার স্বপ্ন ছিল একটি গরুর খামার গড়ে তোলা। ধীরে ধীরে সঞ্চয় করে বর্তমানে তিনটি গরু পালন করছি। লালুর ওজন প্রায় ৩০ মণ হবে বলে ধারণা করছি। বাকি দুটি গরুর সম্মিলিত ওজন প্রায় ৫৬ মণ হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গরুগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। ঘাস, খড়, ভুসি ও দেশীয় খাবারই প্রধান খাদ্য। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ফিড বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।’
আশিক বিশ্বাসের বড় ভাই রিয়াজ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরাই গরুগুলোর দেখাশোনা করি। লালুকে নিয়েই মানুষের আগ্রহ বেশি। বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবং বাইরে থেকে অতিরিক্ত গরু না এলে ন্যায্য দাম পাব বলে আশা করছি।’