শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগে আসমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের পালং এলাকায় একটি বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে।
আটক হওয়া আসমা আক্তার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার জিয়া সরদারের (৪২) স্ত্রী।
আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, সম্প্রতি তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন আসমা আক্তার। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্যে দেহটি ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করেন তিনি। পরে ড্রামে ও ফ্রিজে ভরে রাখেন তিন দিন।‘
আসমার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ওই নারী অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে সাদা প্লাস্টিকে মোড়ানো একটি ব্যাগ করে ফেলে দেন। এরপর বাকী অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়।
পরবর্তীতে তিনি দেহের মাংসগুলো শহরের উত্তর পালংয়ের শাবনুর মার্কেট এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান। তখন তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানান স্থানীয়রা।
তবে গণমাধ্যমকর্মীদের আসমা দাবি করেছেন, তার স্বামীই তাকে আগে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতো। নিষেধ করলে আমাকে মারধর করত। ঘটনার রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন দেখি আমার স্বামী আমার গলায় ধারাল অস্ত্র (বটি) ধরেছে। এরপর আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে আমি রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। এতে সে মারা যায়। পরে ভয় পেয়ে মরদেহ লুকানোর জন্য ছুরি দিয়ে টুকরো করি এবং বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিই।’
নিহত জিয়ার আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, ‘আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে প্রেমের সম্পর্ক থেকে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফিরে আলাদা বাসায় বসবাস করতেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, প্রাথমিক জ্ঞাসাবাদে আসমা তার স্বামীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গেহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।