ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কলেজছাত্র মঈন। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষ এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। বাড়ির ছাদ বাগানে আঙুর চাষ করে বর্তমানে তিনি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন।
মঈন ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের আকালবরিশ এলাকার বাসিন্দা জাকির খানের ছেলে। ২০২২ সালে মঈন ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রথমদিকে অল্প পরিসরে চাষ করে ফলন পেলেও স্বাদে টক হওয়ায় নানা সমালোচনা ও কটুক্তির শিকার হয়েছিলেন। তবে হতাশ না হয়ে আরও মনোযোগী হয়ে ওঠেন এবং নতুনভাবে পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করেন।
এরপর ২০২৪ সালে বাড়ির ছাদে প্রায় ১৫০০ স্কয়ার ফুট জায়গায় গড়ে তোলেন একটি আধুনিক আঙুর বাগান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করেন বাইকুনু, ডিকসন, ইকোলো ও ভ্যালেসসহ প্রায় ৪৫টি ভিন্ন জাতের আঙুরের চারা। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি।
সরেজমিনে তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, কালোসহ নানা রঙের বাহারী আঙুর। স্থানীয়দের কাছে বাগানটি এখন এক আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। শুধু আঙুর বিক্রি নয়, বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রিও করছেন তিনি। এতে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
মঈনের এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এলাকার অন্য তরুণরাও। অনেকেই তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে শুরু করেছেন ছাদে কিংবা বাড়ির আঙিনায় আঙুর চাষ। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসছেন পরামর্শ নিতে।
মঈনের প্রতিবেশী আয়নাল খান বলেন, ‘ছাদে এত সুন্দর আঙুর বাগান আমি আগে কখনো দেখিনি। মঈনকে দেখে এখন গ্রামের অনেক যুবক আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সে এখন সফল উদ্যোক্তা।’
ডামুড্যা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন বলেন, ‘মঈনের আঙুর বাগান পরিদর্শন করে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’