মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড থেকে বালিয়াখোড়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কজুড়ে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত; কোথাও কোথাও খোয়া সরে গিয়ে কেবল মাটি আর ভাঙা পাথরের স্তূপ দেখা যায়। বৃষ্টি নামলেই গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পুরো পথটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এই সড়কটি ঘিওরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর সংস্কারের অভাবে এর বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো সড়কজুড়ে যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে এক গর্ত থেকে আরেক গর্তে পড়ছে। এতে প্রায়ই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রী ও চালকদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘গাড়ি চালাতে গিয়ে সবসময় ভয় কাজ করে। সামনে কী আছে বোঝা যায় না। একটা গর্ত এড়াতে গিয়ে আরেকটায় পড়ে যাই।’
শুধু চালকরাই নন, ভোগান্তিতে আছেন সাধারণ যাত্রীরাও। স্থানীয় শিক্ষক মাহবুব আলম জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। অসুস্থ রোগী নিয়েও চলাচল করতে হয়। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনিতে কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এদিকে উপজেলার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থাও একই রকম খারাপ বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চলাচল আরও দুরূহ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ( এলজিইডি) মোহাম্মদ আলী বলেন, সড়কটির সমস্যার বিষয়টি আগে থেকেই তাদের জানা রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নাশিতা-তুল-ইসলাম বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সমন্বয় চলছে।