মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল
মেহেরপুর পৌর শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মুকুল ইসলামের কাছে মঙ্গলবার রাতটি ছিল আতঙ্ক আর অপমানের। অসুস্থ ছেলে ফারদিনকে (১২) নিয়ে চিকিৎসার আশায় তিনি ছুটে গিয়েছিলেন মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। কিন্তু, সেখানে গিয়ে চিকিৎসাসেবার বদলে তাকে সহ্য করতে হয়েছে দুর্ব্যবহার ও চরম ভোগান্তি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ১০টার কিছু সময় পরে ছেলে ফারদিনকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান মুকুল ইসলাম। নিয়ম অনুযায়ী টিকিট কাটার পর কর্তব্যরত নার্সরা তাকে ডিউটি ডাক্তারের রুমে গিয়ে কথা বলতে বলেন। ছেলেকে নিয়ে তিনি ডিউটি রুমে ঢুকতেই কর্তব্যরত ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. সালেকিন কবীর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
মুকুল ইসলামের অভিযোগ, রুমে ঢুকতেই চিকিৎসক রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, ‘এই রুমে আপনাকে কে আসতে বলেছে?’
পরিস্থিতি বিব্রতকর হয়ে উঠলে মুকুল ইসলাম রুম থেকে বের হয়ে জরুরি বিভাগে যান। পরে সেখানে থাকা নার্সরা চিকিৎসককে জানান, রোগীর ইউরোলজি সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় তারাই রোগীকে ডিউটি ডাক্তারের রুমে পাঠিয়েছেন।
এরপর চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে দুটি ওষুধ লিখে দেন। একই সঙ্গে মুকুল ইসলামকে বলেন, পরবর্তীতে রোগীকে নিয়ে পাশের রাবেয়া ক্লিনিকে যেতে হবে, কারণ সেখানে তার ব্যক্তিগত চেম্বার।
মুকুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে ইউরোলজির চিকিৎসক ডা. সালেকিন কবীর দায়িত্বে আছেন জেনে আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এরকম ব্যবহার আশা করিনি। আমি যখন প্রেসক্রিপশন নিয়ে চলে আসছিলাম, তখন ওই চিকিৎসক নার্সদের বলেন, আমি রুমে ঢোকার পর আপনারা বাইরে থেকে তালা দিয়ে দেবেন।’
চিকিৎসকের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে মুকুল ইসলাম নিজের মোবাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও ধারণ করেন বলেও জানান।
এদিকে একই সময়ে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। মেহেরপুর সদর উপজেলার চক্রপাড়ার বাবু নামের এক স্ট্রোক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, তখনও কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বিশ্রাম কক্ষ থেকে বের হননি। অপেক্ষার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত একটার দিকে সরেজমিনে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে যান প্রতিবেদক। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে একজন নারী প্যারামেডিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তার পাশেই বসে আছেন ‘প্রাইম ল্যাব’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের শরীফ নামের এক কর্মচারী।
এসময় সরেজমিনে দেখা যায়, অন-ডিউটি চিকিৎসক তার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ঘুমিয়ে আছেন। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। দরজায় একাধিকবার নক করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে রাতেই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন প্রতিবেদক। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন অব্যবস্থাপনা, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।