ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবীরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের যমুনা সেতুতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এই বাড়তি চাপের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে সেতুর পশ্চিমপাড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত, এই সময়ে সেতুর ওপরে ছোট বড় ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার তথ্য অনুযায়ী, ২৪টি দুর্ঘটনার মধ্যে ছয়টি দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরাতে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কখনো এক লেন, আবার কখনো দুই লেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। এ দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেতুর পশ্চিমপাড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শনিবার (৬ জুন) থেকে দেশের পোশাক কারখানাগুলো পূর্ণমাত্রায় চালু হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যানবাহন বিকল হওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার মতো দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর চলাচল বারবার ব্যাহত হয়েছে। একটি যানবাহন বিকল হলেই দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ সময়ে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময় সেই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত যানবাহনের এই চাপ সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।