লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের মরদেহ তাদের নিজ জেলা সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে। রোববার (৭ জুন) দুপুরে যখন তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে ভাড়ি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
কফিনে মোড়া হাজারো স্বপ্নের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে এখানে। অকালে ঝরে যাওয়া এই নির্মম বিদায় দুটি পরিবারে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, ‘শফিকুল আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন লেবাননে যায়, তখন সে খুবই হাসি-খুশি ছিল। কিন্তু হুট করেই আমরা জানতে পারি, সেখানে যাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে বিদেশে পারি জমিয়েছিল। আজ পরিবারটি পথে বসে গেল।’
একই অবস্থা লেবাননে নিহত ২০ বছর বয়সী তরুণ নাহিদুল ইসলামের পরিবারে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের বাসিন্দা নাহিদুল। জীবনের সব রঙিন স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই চিরতরে নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ।
জানা গেছে, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন তারা। বিকট বিস্ফোরণে প্রাণ হারান শফিকুল ও নাহিদুল। এরপর দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হিমঘরের অন্ধকার পেরিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শনিবার (৬ জুন) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাদের নিথর দেহ।
খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে আসার পর জরুরি খরচ ও দাফন বাবদ তাদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার কারণে ওই পরিবারগুলো পরবর্তীতে আরও ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা পাবেন। যার মধ্যে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এবং বাকি ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয় জীবন বীমা করপোরেশনের পক্ষ থেকে।