পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এস এম মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে তিনজন নিহত হন।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
এ ঘটনার পর নিহত সুমন শেখের ভাই উকিল শেখ বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘রিয়ার জানাযা শেষে ফেরার পথে ওই বাড়িতে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় এলাকায় কয়েকজন বাড়ির ভেতরে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে তারা দগ্ধ হন। খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ভাইও আছে। কারা যে আগুন দিল, আর আমার ভাই সেখানে কেন গিয়েছিল বুঝতে পারছি না। মাঝে আমার ভাইটা অকারণে প্রাণ দিল।’
নিহত ইমন ওরফে সাপুর বড় ভাই ইমরান হোসেন বলেন, ‘ইমন ফার্নিচারের কাজ করত। রিয়ার জানাযা শেষে ফেরার পথে ওই বাড়িতে আগুন দেখতে পায় সবাই। এখন কীভাবে যে কি হলো কিছুই জানি না। একটা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে ৫ জন দগ্ধ হয়। তার মধ্যে আমার ভাইও ছিল। এখন তারা সেখানে দেখতে গিয়েছিল নাকি আগুন নেভাতে গিয়েছিল কিছুই জানি না।’
নিহত সাব্বিরের চাচাতো ভাই শাকিল হোসেন বলেন, ‘সাব্বির ও ইমন একসঙ্গে জানাজা শেষে অভিযুক্ত নাইমের বাড়িতে দেখার জন্য যায়। সেসময় আকাশে মেঘ দেখে আমি বাড়ি চলে আসি। বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পর শুনি আগুনে নাকি তারা পুড়ে গেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাদশা আলমগীর বলেন, ‘কীভাবে আগুন লাগল, কারা দিল দেখিনি। আর যারা মারা গেছে তারা ওই বাড়িতে কখন কীভাবে গেছে, কী কারণে গেছে সেটাও জানা নাই। তবে ঘটনাটা খুব দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আগুনে পুড়ি নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। এবিষয়ে তদন্ত চলছে।’
উল্লেখ, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে রিয়া খাতুন নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নিহতের ভাই খালিদ হাসান বাদি হয়ে ৪ জুন তিনজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ রিয়ার প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাইম প্রামানিক (২২), একই এলাকার শফিক শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ (২১) এবং শিমুল প্রামানিকের ছেলে তুহিন প্রামানিক (২০)। গ্রেপ্তারের পর তারা পুলিশের কাছে রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।