গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া বাগুমৃধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি, আর্থিক দুর্নীতি এবং শিক্ষা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সরকারি দপ্তরের তদন্তে অপরাধের সত্যতা মেলার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে তার শিক্ষাগত সনদের জালিয়াতি উঠে এসেছে। অভিযোগকারীরা নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি যে শিক্ষাগত সনদটি ব্যবহার করেছেন, তাতে কোনো রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের উল্লেখ নেই! এই রহস্যময় এবং রোল-রেজিস্ট্রেশনবিহীন সনদের ওপর ভর করেই তিনি ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাকরি এবং বেতন-ভাতা তুলছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
কেবল সনদ জালিয়াতিই নয়, বিদ্যালয়ের সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলার এক দীর্ঘ খতিয়ান মিলেছে। জানা যায়, বিদ্যালয়ের জমিতে বসবাসের জন্য ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণ করেছেন প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণ করে চড়া দামে বিক্রি করেছেন। মাঠের বালু ভরাটের কাজে আর্থিক অনিয়ম, বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রি এবং প্রধান গেট নির্মাণেও পুকুরচুরির আশ্রয় নিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে আদায় করা অর্থের হিসাব রাখেননি তিনি। এমনকি অফিসিয়াল ব্যাংক হিসাবের বাইরে স্কুলের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেছেন।
এসব কর্মকাণ্ডেই থেমে থাকেননি প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা। ২০১৩ সালে স্ত্রী মুক্তা খানমকে একই বিদ্যালয়ের ‘সহকারী গ্রন্থাগরিক’ পদে চাকরি দেন। অথচ যে সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তিনি ২০১৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সাইন্স পাস করেছেন। কীভাবে তিনি পাস করার ৫ বছর আগেই চাকরিতে যোগদান করলেন- সে প্রশ্ন স্থানীয়দের।
গোলাম মাওলার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা শিক্ষা প্রশাসনের ৫টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দপ্তরগুলো হলো— উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫টি দপ্তরের আলাদা তদন্তে প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি! বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য খলিলুর রহমান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই তদন্ত করার উদ্দেশ্য কী ছিল? দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও তার অপসারণ চাই।’
মুঠোফোনে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বিষয়গুলোকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী মুক্তা বেগম ফোন কেড়ে নিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে অসংলগ্ন আচরণ করেন। তিনি দাবি করেন, সেটি তাদের বাপ-দাদার স্কুল, তারা যা খুশি করবেন তাতে সাংবাদিকের কী? প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন মুক্তা বেগম।