বাগেরহাটে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে দুই পরীক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের ভেতরে ও বাইরে দুই দফায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের ভেতরে প্রথমে দুই পরীক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। পরে তারা কেন্দ্রের বাইরে বের হলে আবারও হামলার শিকার হন। এ সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্য তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা ওই দুই শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার শিকার শাহরিয়ার খান ও রাফসান আমিন বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের এইচএসসি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি পিসি কলেজ ছাত্রদল নেতা সামিরসহ কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথাকাটাকাটির জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে ছাত্রদল নেতা সামির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাহরিয়ার খান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এবং বর্তমান সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে আসছিল। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তার সহপাঠীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ জেড এম রুহুল কাদির বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। কেন্দ্রের ভেতরে বিশৃঙ্খলার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র তাদের অধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে আবার সংঘর্ষে জড়ায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানানো হবে, যাতে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।