মাদারীপুরের কালকিনিতে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে দা দিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মো. সিদ্দীক হাওলাদার (৬৮) নামে এক ব্যক্তি। হামলায় তার পুরুষাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদারের ছেলে আজিজুল হাওলাদারসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কালকিনি পৌর এলাকার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌর এলাকার পাতাবালি গ্রামের কৃষক সিদ্দীক হাওলাদার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাছেন ঘরামীর মেয়ে রেহেনাকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তার দুই শ্যালকের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। পরে দুলাভাই সিদ্দীক হাওলাদার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে বিরোধ মেটাতে গিয়ে তিনি এক পক্ষের হয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে।
এর জের ধরে রোববার দুপুরে পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর সিদ্দীক হাওলাদারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আজিজুল হাওলাদারসহ আরও দুজন আহত হন।
আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, হামলায় সিদ্দীক হাওলাদারের পুরুষাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। অস্ত্রোপচারের পর তার আঘাতের প্রকৃত অবস্থা ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিদ্দীক হাওলাদারের পুত্রবধূ রজিনা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুর ও আমার স্বামীসহ তিনজনকে সাজ্জাদ ঘরামী কুপিয়ে আহত করেছেন। আমার শ্বশুরের পুরুষাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এ ঘটনায় আমরা মামলা করব।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঘরামীর মা আয়সা বেগম। তিনি বলেন, ‘তার জামাই ও ছেলের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। আমার ছেলেরও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’