মাগুরার শ্রীপুরে সিআইডি সদস্য পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই নারীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুল হোসেনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, একটি নোহা মাইক্রোবাস ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতের নৈশকালীন ডিউটির সময় নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি নোহা মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে। বিষয়টি পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে জানানো হলে তার নির্দেশে মাইক্রোবাসটির ওপর নজরদারি শুরু করা হয়।
পরে রাত পৌনে ২টার দিকে নাকোল ক্যাম্পের এসআই মো. আবদুল মালেকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করেন। এতে ওই নারীকে অপহরণের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
আটকরা হলেন—ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাখানা এলাকার আসমা খাতুন (৩১), পাবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান হাছান (২৮), পাগলাখানা এলাকার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান সাহ (২৫), কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ছাব্বির হোসেন (২২), ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়মুখ এলাকার সাকিব (২৩) এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার দেবিলা এলাকার আল আমিন হোসেন (২২)।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ওই নারীর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরে তিনি শিমুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে সংসার করছিলেন। কিছুদিন আগে তার প্রথম স্বামী তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর দ্বিতীয় স্বামী শিমুল হোসেন ওই নারীকে অপহরণের জন্য সাতজনকে ৫ লাখ টাকায় ভাড়া করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, চুক্তি অনুযায়ী সাতজন ঝিনাইদহ থেকে নোহা মাইক্রোবাস নিয়ে এসে ওই নারীর বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ নজরদারি শুরু করে এবং পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
এ ঘটনায় কথিত মূলহোতা শিমুল হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটক সাতজনসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অপহরণের চেষ্টা ও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।