প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর অবস্থান প্রশাসন। তাই দ্বীপে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড থামাতে তিন দিনব্যাপী যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। তার সঙ্গে ছিল পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
অভিযানে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে প্রিন্স হ্যাভেন রিসোর্ট, জোয়ার-ভাটা রেস্তোরা, ড্রিমস প্যারাডাইস রিসোর্ট ও প্রাসাদ প্যারাডাইস রিসোর্টকে ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। একই তাদেরকে সতর্ক করা হয়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো থেকে নিষিদ্ধ সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকের তৈরি কাপ ও স্ট্র জব্দ করা হয়। আর দুইটি রেস্তোরা থেকে পঁচা ও বাসি খাবার উদ্ধার করে তা মাটিচাপা দেওয়া হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি বলেন, ‘দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো এই সেন্টমার্টিন। এই দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুসংস্থান সুরক্ষা এবং এসব বিষয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে আমরা সরেজমিনে এসে কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অভিযানের অংশ হিসেবে যেসব হোটেল ও প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনবিহীন বা লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে কিংবা যেসব হোটেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক ও যথোপযুক্ত নয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’
নাফি বলেন, একই সঙ্গে দ্বীপে যারা সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার করছে, তাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী-যেমন স্ট্রসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক জব্দ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে তিনটি হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই অভিযান আগামী দুইদিন অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারকে একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং ইকোলজিক্যালি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।