অডিও রেকর্ড নিয়ে রহস্য
নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। শনিবার (২ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এই সম্মেলনে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ বা অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করতে পারেননি তারা। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের মুখে বিড়ম্বনায় পড়েন নিহতের ভাই ও মামলার আইনজীবী।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই দাবি করেন, টিটনকে হত্যার দেড় মাস আগে থেকেই তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আসামি পিচ্চি হেলাল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিভিন্ন পশুর হাটের ইজারা ও সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি করা হয়। প্রচলিত নিয়মে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অসম্ভব হলেও হেলাল প্রভাব খাটিয়ে এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন নিহতের ভাই।
সংবাদ সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল পিচ্চি হেলালের কথিত ‘মিথ্যাচারের অডিও রেকর্ড’। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই রেকর্ডে হত্যার ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরও সেই রেকর্ডটি সাংবাদিকদের শোনানো হয়নি। উপস্থিত সাংবাদিকরা যখন বারবার অডিও রেকর্ডটি শুনতে চান এবং টেন্ডারবাজির অভিযোগের সপক্ষে দালিলিক প্রমাণ দেখতে চান, তখন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান ও নিহতের পরিবার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান বলেন, অডিও রেকর্ডগুলো মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষিত আছে। তবে আলামত হিসেবে থাকলে কেন সেগুলো সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু করা হলো কিন্তু প্রকাশ করা হলো না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
হত্যার হুমকি এবং টেন্ডারবাজির মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে শক্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে না পারায় উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মাঝে সংবাদ সম্মেলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে? মামলার আইনজীবী ও বাদীপক্ষ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে বারবারই অডিও রেকর্ডটি মামলার ‘গোপন আলামত’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এদিকে টিটনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন কারামুক্তির পর সাউথ আমেরিকায় আছেন বলে দাবি করেছেন টিটনের ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন।
তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনে পিচ্চি হেলালের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে সম্মেলন শেষ করা হয়। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরিবারটি জানায়, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের কঠোর শাস্তি চান। তবে সংবাদ সম্মেলনে পর্যাপ্ত প্রমাণের অনুপস্থিতি পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন টিটন। এ ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ৩৭টি সিসিটিভির ফুটেজ থেকে দুইজন শুটারকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে ডিবি এবং র্যাব। সেই সঙ্গে ব্যাকআপ টিমে থাকা সদস্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে রিপনের নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ একাধিক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর নাম সামনে এসেছে। চলছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। এর মধ্যে অন্যতম সন্দেহভাজন টিটনের বোনজামাই শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। অন্যজন শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল। এছাড়া আছে সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের ছোটভাই তোফায়েল আহমেদ জোসেফের নামও।