শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) বিকেল পৌনে ৪টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমধর্মী এক পরিবেশ তৈরি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখিত বক্তব্য না পড়ে সরাসরি উপস্থিতদের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত হন। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মাঠে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী নিয়ে শিশু-কিশোরদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চান। জবাবে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও কিশোররা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালে তিনি তাদের সঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে নতুন কিছু ভাবনা শেয়ার করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে নতুনভাবে ক্রীড়া সম্প্রসারণের এই ধারণার সূচনা হয়। তিনি বলেন, ‘সে সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম লন্ডনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সাক্ষাতের একপর্যায়ে তারা একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যান ও সেখানেই দেশের ক্রীড়া খাতকে নতুনভাবে সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা থেকে নতুনভাবে প্রায় ২০টি ক্রীড়া চালুর পরিকল্পনার ধারণা আসে। তবে প্রাথমিকভাবে ৮টি ডিসিপ্লিনে শুরু হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা।’
তিনি বলেন, ‘কেন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মূল কারণ তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত করা। তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ বিশ্বমানের খেলোয়াড় হবে, কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী; কেউ সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিও হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তোমরা কী হতে চাও, সেই লক্ষ্য ঠিক করে সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে হবে। তোমরা যত সুন্দর ও শক্তভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে, দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে।’
শনিবার উদ্বোধনের মাধ্যমে সারাদেশে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণে এই প্রতিযোগিতা শুরু হলো। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে চায় সরকার।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর, তত্ত্বাবধায়নে আছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’-এর ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এটি একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ভবিষ্যত প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ আয়োজনের আওতায় ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।’