ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ চলাকালে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ জব্দের অভিযানকে ‘জলদস্যুবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব অভিযান কীভাবে পরিচালনা করা হয়, শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডায় এক জনসভায় দম্ভের সঙ্গে তার বর্ণনা দেন তিনি।
উপস্থিত সমর্থকদের করতালির মধ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জাহাজের ওপর অবতরণ করি এবং সেটির নিয়ন্ত্রণ নিই। আমরা মালামাল ও তেল দখল করি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা। আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো। তবে আমরা কোনো গেমস খেলছি না।’
এদিকে ইরানের অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি ট্যাংকার মার্কিন বাহিনী আটকে দেওয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে তারা ‘উন্মুক্ত সমুদ্রে সশস্ত্র ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, ‘এই অভিযান মূলত জলদস্যুতাকেই সমর্থন করে। বিশ্ব এখন জলদস্যুদের প্রত্যাবর্তন দেখছে।’
মার্কিন কর্তৃপক্ষ আইনি অজুহাতের আড়ালে মূলত অবৈধভাবে জাহাজ দখল করছে বলে অভিযোগ তার।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান নিজেদের জাহাজ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তারা অবরোধ নিশ্চিত করতে ৪৫টি জাহাজের পথ পরিবর্তন করেছে।
গত মাসে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই অবরোধ ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ চলবে।
মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এদিকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের বন্দরে অবরোধ বজায় রাখলে তারাও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে।