টিটন হত্যা
নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বকে মূল কারণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে এই দাবির সপক্ষে শক্তিশালী কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো বসিলা পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
বসিলা পশুর হাটের ইজারা পাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠান শিডিউল সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: রক্তাত বিজয়, মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজ, আর ইসলাম মাচেন্ট্রী এন্ড কোং ও মেসার্স তালুকদার এন্টারপ্রাইজ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, চারটি শিডিউলের কোনোটিই এখন পর্যন্ত জমা দেওয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সংগৃহীত এই তালিকায় নিহত টিটন বা অভিযুক্ত পিচ্চি হেলালের কোনো নাম পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে টিটনের পরিবার ও আইনজীবী পশুর হাটের ইজারা ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন। তবে সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা যখন এসব অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ বা কোনো অডিও রেকর্ড দেখতে চান, তখন তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে পশুর হাট নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দ্বন্দ্বের প্রমাণ উপস্থাপন না করতে পারায় পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে হাটের ইজারা সংক্রান্ত একটি গোপন ফোনালাপের তথ্য উঠে এসেছে। তবে সেই ফোনালাপ পিচ্চি হেলালের নয়, বরং শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের বলে জানা গেছে। ফোনালাপের তথ্য অনুযায়ী, বসিলা পশুর হাট দখলের চেষ্টা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, টিটন হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পশুর হাটের কথা কেন বারবার সামনে আনা হচ্ছে?
যেখানে ইজারা প্রক্রিয়ায় টিটন বা হেলাল কারও আনুষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নেই, সেখানে এই হত্যাকাণ্ডকে হাটের ইজারার সঙ্গে জোড়ানোর চেষ্টা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে বা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য থেকে জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পশুর হাটের ইজারার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে ও টিটন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।