ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে অন্যের নামে নিবন্ধিত বিকাশ এজেন্টের সিম জব্দ করা হয়েছে ও তিনি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামালের কাছ থেকে এই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করেন ।
আরও জানা যায়, পরে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১ মে) ভোর ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানাধীন ভাদুঘর গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকেই প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা স্বপন কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার স্বপন নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার দিয়াবাড়ি বাজারে ‘উৎসব ফার্মেসী’ নামের একটি দোকানের মালিক। তিনি ফেসবুকে প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেন। ভিসা প্রসেসিংসহ নানা অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। স্বপন তার পরিচিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এক কলেজ শিক্ষকের নামে কৌশলে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন। সিমগুলো নিজের কাছে রেখে সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রতারণার টাকা পেমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে ২৯ লক্ষ ৩২ হাজার ১৪১ টাকা পেমেন্ট হিসেবে জমা হয়। পরে তার সহযোগী পলাতক আসামি জাবেদুল ইসলামের মাধ্যমে এই টাকা নগদায়ন করে আত্মসাৎ করা হয়।
পিবিআই জানায়, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হতে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।