ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে।
দেশে ডিজেল সর্বাধিক ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং প্রায় সম্পূর্ণ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬৮ লাখ টন পেট্রোলিয়াম ব্যবহার হয়েছে, এর মধ্যে ৪৩ দশমিক ৫ লাখ টনই ছিল ডিজেল। নতুন এই আমদানির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে, বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে এসব এলএনজি কেনা হচ্ছে। দুই কার্গোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত থাকলেও নতুন চালান বিলম্বিত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার আশা করছে, জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই আমদানি সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।