২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদালতের নির্দেশে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর মধ্যে দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা ও বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দপ্তরে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪-২৫ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ারউদ্দিন মো. মামুন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশে অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো জব্দ অবস্থায় থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় নির্বিশেষে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চালিয়ে যাচ্ছে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে জনগণের সম্পদ সুরক্ষায় সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিএফআইইউ প্রধান জানান, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থপাচারবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সন্দেহজনক আর্থিক প্রতিবেদন (এসটিআর ও এসএআর) আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) ও নয় হাজার ৬৭৫টি সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর)।
এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এমন প্রতিবেদন ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল পাঁচ হাজার ২৮০টি। বিএফআইইউর মতে, কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকি, লেনদেন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনলাইন জুয়া, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও ডিজিটাল হুন্ডির মতো কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে সন্দেহজনক প্রতিবেদনের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জমা পড়া প্রতিবেদনের ৯৫ শতাংশ এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো একাই ২৮ হাজার ৭৫৫টি এসটিআর ও এসএআর জমা দিয়েছে, যা আগের বছরের ১৫ হাজার ৯৯১টির তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিএফআইইউর সহযোগিতাও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য চাওয়ার আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩২৯টিতে, যা আগের অর্থবছরে ছিল এক হাজার ১৫৭টি। সবচেয়ে বেশি তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অন্যদিকে, একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলনের বাধ্যতামূলক নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) কমেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর্থিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে এক হাজার ৪৮৪টি লেনদেন, যার পরিমাণ ২১৭ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নগদবিহীন ও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই সিটিআরের সংখ্যা কমেছে।