রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় সাড়ে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় এসংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন মেলে। ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় বাড়ছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব এটা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, একনেক সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি প্রকল্পের অনুমোদন। দুটি একনেক হওয়ার কথা ছিল। সেটি না করে একটি করায় প্রকল্প বেশি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি নতুন প্রকল্প নেয়নি বলে জানান ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারির জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরও বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২.৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।