ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেজাকুল হায়দার হলে মানব পাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে দিনব্যাপী বিশেষায়িত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘মানব পাচার (টিআইপি) ও অভিবাসী পাচার (এসওএম)’। কর্মশালাটি আয়োজন করা হয় জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর সহযোগিতায়।
‘মানব পাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হয়। এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, অপরাধবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলীয় কার্যক্রম, উন্মুক্ত আলোচনা এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারিদ আহমদ সোবহানী। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন আইন অনুষদের ডিন এ বি এম ইমদাদুল হক খান।
কর্মশালার প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করেন ইউএনওডিসির ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসনিম বিনতে করিম। তিনি প্রকল্পের সার্বিক ধারণা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
পরবর্তী অধিবেশন পরিচালনা করেন ইউএনওডিসির আইন প্রয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কাস ভিনিসিয়াস পায়েস। তিনি মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারের মৌলিক ধারণা ব্যাখ্যা করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানব পাচার সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারের প্রবণতা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আলোকে মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ে বক্তব্য দেন আইন অনুষদের ডিন এ বি এম ইমদাদুল হক খান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মানব পাচার ও অভিবাসী পাচার বিষয়ে জ্ঞান ও বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। পাশাপাশি এসব আন্তঃদেশীয় অপরাধ প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।