ভারতীয় চলচ্চিত্রে তারকাদের পারিশ্রমিক আলোচনা দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি পারিশ্রমিকের দুনিয়ায় যে নতুন অঙ্কটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা হল ৩০০ কোটি টাকা। আর এই বিপুল পরিমাণ পারিশ্রমিক নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তেলুগু সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। বিভিন্ন বিনোদনমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আল্লু অর্জুনকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। এই পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুধু বলিউডই নয়, সামগ্রিকভাবে গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসেই সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতের বেশ কয়েকটি ব্লকবাস্টার ছবির মোট বাজেটের প্রায় কাছাকাছি, আবার কিছু কিছু সিনেমার সামগ্রিক বাজেটের চেয়েও বেশি। এর আগে ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ ছবিটির অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই আল্লু অর্জুনের জনপ্রিয়তা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালে যখন ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’ বড়পর্দায় মুক্তি পায়, তখন তা বক্স অফিসে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ে। ছবির এই বিপুল ও ঐতিহাসিক সাফল্যের জেরেই অভিনেতার বাজারমূল্য এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। চলচ্চিত্র শিল্পের একাংশের মতে, এই আকাশছোঁয়া চাহিদার কারণেই তার পারিশ্রমিক ৩০০ কোটির ঘরে পৌঁছেছে।
পারিশ্রমিকের এই নতুন রেকর্ডের হাত ধরে আল্লু অর্জুন বর্তমান সময়ের একাধিক প্রথম সারির মেগাস্টারকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আয়ের নিরিখে তিনি শাহরুখ খান, প্রভাস এবং থালাপতি বিজয়ের মতো তারকাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন।
তবে বিনোদন জগতের ভেতরের খবর, বিষয়টি এখন আর শুধু একটা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণী সিনেমার অনেক প্রথম সারির তারকাই নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেওয়ার বদলে ছবির লভ্যাংশের অংশীদার বা ‘প্রফিট শেয়ারিং’ মডেল বেছে নিচ্ছেন। আল্লু অর্জুনের ক্ষেত্রেও এই ধরনের লভ্যাংশ ভাগাভাগির মডেল নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আর এই নিয়মে ছবির বক্স অফিস ব্যবসা যত বাড়ে, অভিনেতার ব্যক্তিগত আয়ও ঠিক ততটাই বৃদ্ধি পেতে থাকে।