২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র নয় দিন পরই সামনে এলো বড় এক স্বীকারোক্তি। আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে ভিএআরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ম অনুযায়ী হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। তাদের মতে, ওই ভুল সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, পারেদেসের স্পর্শ পাননি সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এরপর পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে সিমুলেশনের অভিযোগে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তবে আইএফএবির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এখানে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধারা কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়। কোনো ঘটনার ধরন পরিবর্তন করে নতুন অপরাধ নির্ধারণ বা সিমুলেশনের অভিযোগে শাস্তি দিতে এই নিয়ম ব্যবহার করা যাবে না।
ফলে আইএফএবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এম্বোলোর লাল কার্ড পাওয়ার কথা ছিল না। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সুইজারল্যান্ড। আর সেমিফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
একই ধরনের ভুল গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচেও হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইএফএবি। সে ম্যাচেও ভিএআরের মাধ্যমে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা ভুলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
ঘটনার পর আইএফএবি স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে এই ধারা ব্যবহার করে কোনো ফাউলের সিদ্ধান্ত বদলে সিমুলেশন বা অন্য কোনো অপরাধে রূপান্তর করা যাবে না। ভিএআর প্রোটোকলের এই অংশ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ততদিন পর্যন্ত সিমুলেশন–সংক্রান্ত ঘটনায় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা প্রয়োগ না করার নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি। তাই তো প্রশ্নটা থেকেই যায়, ২০২৬ বিশ্বকাপ কতটা নির্ভুল ছিল?