প্রযুক্তি বিশ্বে সাফল্যের গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই যা দেখিয়েছে, তা রীতিমতো রূপকথাকেও হার মানায়। সম্প্রতি উইওন নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর মাত্র একটি দিনের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির ৬০০-এর বেশি কর্মী রাতারাতি কোটিপতি (ডলারের হিসেবে মিলিয়নিয়ার) হয়ে গেছেন। সিলিকন ভ্যালির ইতিহাসে এটি এক বিরল এবং অবিশ্বাস্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস মূলত কোনো লটারি নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা স্টক অপশন। গত বছর ওপেনএআই একটি বিশাল টেন্ডার অফার বা শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই চুক্তির ফলে কর্মীরা তাদের হাতে থাকা কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পান। চ্যাটজিপিটি আসার পর ওপেনএআই-এর বাজারমূল্য আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায়, সেই শেয়ারের দামও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে যেসব কর্মী শুরুর দিকে খুব সাধারণ বেতনে বা স্টকের বিনিময়ে কাজ করেছিলেন, তাদের সেই কাগজের শেয়ারই এক রাতে নগদ ডলারে রূপান্তরিত হয়ে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়।
ওপেনএআই-এর বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই সাফল্যের প্রধান কারিগর হলেন এর প্রকৌশলী, গবেষক এবং সাধারণ কর্মীরা, যারা চ্যাটজিপিটি-র মতো বৈপ্লবিক প্রযুক্তি তৈরিতে দিনরাত কাজ করেছেন। সাধারণত বড় বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোতেও মুষ্টিমেয় কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা কোটিপতি হন। কিন্তু ওপেনএআই-এর ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ছিল বিস্ময়কর, প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মীই এখন সম্পদশালী। এর ফলে কেবল তাদের জীবনযাত্রাই পাল্টে যায়নি, বরং এটি প্রযুক্তি খাতে প্রতিভাবানদের আকৃষ্ট করার নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করেছে।
তবে এই বিপুল অর্থপ্রাপ্তি কোম্পানির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জও বয়ে এনেছে। এক রাতে এত কর্মী সম্পদশালী হয়ে যাওয়ায় অনেক অভিজ্ঞ প্রকৌশলী এখন আগাম অবসরে যাওয়ার বা নিজেদের নতুন স্টার্টআপ শুরুর চিন্তা করছেন। একে প্রযুক্তি বিশ্বে বলা হচ্ছে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’। তবে ওপেনএআই মনে করে, এটি কর্মীদের পরিশ্রমের যোগ্য স্বীকৃতি। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এআই বিপ্লব কেবল জীবনযাত্রা সহজ করছে না, বরং যারা এর পেছনে কাজ করছেন তাদের ভাগ্যকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
ওপেনএআই-এর এই মিলিওনিয়ার হওয়ার খবরটি এখন টেকপাড়ায় সবচাইতে আলোচিত বিষয়। এটি তরুণ প্রজন্মকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার গড়তে এক নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। কারণ সবাই এখন বুঝতে পারছে, আগামীর পৃথিবী কেবল এআই-এর নয়, বরং যারা এআই গড়বে, সৌভাগ্য তাদের কাছেই ধরা দেবে।