বাংলাদেশে হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নীরবে মহামারির আকার ধারণ করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছে। তবে, এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা না থাকায় অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসকের কাছে যায় না। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের জন্য থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা ও মুক্ত আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ সব কথা বলেন।
রেনাটা পিএলসি-এর সহযোগিতায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) এই থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা ও মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে।
থাইরয়েড হরমোনজনিত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা এন্ড্রোক্রাইন ইনস্টিটিউট করার দাবি জানিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, হরমোনজনিত রোগ নীরব ঘাতক। এর কারণে স্থূলতা, দুর্বলতা, পুরুষালি ও মেয়েলি নানা সমস্যা এমনকি বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যার নানা রোগের উপসর্গ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসেডবি-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, দেশে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক বোঝা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমোনজনিত প্রায় সব রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা হচ্ছে। অধিকাংশ হরমোনজনিত রোগই প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল ইসলাম, রেনাটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং (ডার্মা পোর্টফোলিও) মো. খায়রুল ইসলাম, ডিআরইউর সহ-সভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।