ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল যত গোল করবে, ততটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। ফুটবল উন্মাদনাকে কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতে ‘গোল ফর গুড’ নামে এ উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানায়, অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত এলাকার স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অনেক স্কুলে এখনো মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কিশোরীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক সংকোচ ও ভুল ধারণা যুক্ত হওয়ায় অনেক কিশোরী মাসিকের সময় অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
সংস্থাটির উল্লেখ করা সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতি তিনজন কিশোরীর একজন মাসে তিন দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এ ছাড়া প্রতি ১০ জন কিশোরীর মধ্যে সাতজন প্রথম মাসিক শুরু হওয়ার আগে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা পায় না।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কমিউনিকেশনস কো-অর্ডিনেটর প্লাবন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসকে সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘গোল ফর গুড’ ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। তার মতে, বিশ্বকাপের প্রতিটি গোল ও উদযাপন এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পারে, যার মাধ্যমে কিশোরীদের শিক্ষা, স্বস্তি ও মর্যাদা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ক্যাম্পেইনটি চলবে। টুর্নামেন্ট শেষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা হিসাব করে কতটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে, তা ঘোষণা করা হবে। স্কুল নির্বাচন করা হবে প্রয়োজন, সম্ভাব্য প্রভাব ও অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশ বিবেচনায়।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, মাসিক স্বাস্থ্য কিশোরীদের অধিকার, শিক্ষা, সুস্থতা ও মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। জাতীয় আনন্দের একটি উপলক্ষ্যকে কাজে লাগিয়ে কিশোরীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টিকে সামনে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মসূচি আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পিরিয়ড-বান্ধব স্কুল গড়ে তুলতে উৎসাহিত করবে।
স্কুল, কমিউনিটি ও জনপরিসরে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সেবা নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ‘গোল ফর গুড’ ক্যাম্পেইন চালু করেছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।