রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগীর বাবা। তবে এই রায়ে একই রকম সন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহও।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সমাজের নাগরিক হিসেবে আপনি-আমি সবাই সন্তুষ্ট হই।’
চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ মাত্র চার কার্যদিবসে নিষ্পত্তি হওয়া প্রসঙ্গে আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, ‘এই আসামিদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কোনো আইনজীবী ছিল না। আইনজীবী ছাড়া মামলার বিচারকাজ শুরুই করা যেত না। রাষ্ট্র আমাকে তাদের পক্ষে লড়ার জন্য নিয়োগ করেছিল। আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম বলেই মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে এই দুর্ধর্ষ ও মর্মান্তিক ঘটনার বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। আমি দায়িত্ব না নিলে রাষ্ট্র এত অল্প সময়ে অপরাধীর বিচার করতে পারত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহল বা মানবাধিকারের প্রশ্নে আসামিদের আইনি অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশে রাষ্ট্র আমাকে সেই দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি আইনগতভাবে আসামিদের পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
আসামি স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘স্বপ্না যেহেতু সরাসরি ধর্ষণ কাজে অংশ নেয়নি, তাই আমি তার অব্যাহতি চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অপরাধের সহযোগীও ছাড় পাবে না। স্বপ্না চাইলে অপরাধটি প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করতে পারত, কিন্তু সে তা করেনি। আদালত এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।’
এই রায় সমাজে একটি শিক্ষণীয় সচেতনতা তৈরি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মামলার বিচার একটি নজির হয়ে থাকবে। মানুষ এখন নিশ্চয়ই মনে করবে যে অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না।’
উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে জানতে চাইলে মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে আমার দায়িত্ব আজ রায় ঘোষণা পর্যন্তই ছিল। এর পরবর্তী বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে সরকার এবং আসামিদের বিষয়।’