রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আসামিদের করা অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন নামঞ্জুর করে সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২০ মে এ মামলার চার্জ ও ডিসচার্জের আবেদনের শুনানি শেষ হয়। এরপর আদেশের জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করেন। এদিন সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন।
এদিন দুদকের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর শামীম হোসেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন- এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন, শাহীনুর ইসলাম ও খাদেমুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং, হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন।
পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক রয়েছেন।