ব্লুটুথ হেডফোন বা ইয়ারবাড দীর্ঘক্ষণ বা ভুল নিয়মে ব্যবহার করলে মূলত শ্রবণশক্তি এবং কানের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ যুগে এই অডিও ডিভাইজ অহরহই আমরা ব্যবহার করি। কিন্তু এসব ব্যবহারের সময় মানতে হবে কিছু নিয়ম কানুন। না হলে হয়ে যেতে পারে বড় বড় ক্ষতি।
১. শ্রবণশক্তি হ্রাস: ইয়ারবাড সরাসরি কানের পর্দার খুব কাছাকাছি থাকে। আপনি যদি ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দে দীর্ঘক্ষণ গান শোনেন, তবে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
২. কানে ইনফেকশন ও ছত্রাক: ইয়ারবাড কানে শক্তভাবে আটকে থাকে, ফলে কানের ভেতর বাতাস চলাচল করতে পারে না। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে কানের ভেতর আর্দ্রতা ও ঘাম তৈরি হয়, যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ। এছাড়া ইয়ারবাড নিয়মিত পরিষ্কার না করলে তা থেকে কানে ইনফেকশন হতে পারে।
৩. কানের খৈল বা ওয়াক্স জমে যাওয়া: প্রাকৃতিকভাবে কানের খৈল বাইরে বেরিয়ে আসার কথা। কিন্তু ইয়ারবাড ব্যবহারের সময় আমরা সেটি কানের আরও গভীরে ঠেলে দিই। এর ফলে কানে ব্যথা, চুলকানি বা কানে কম শোনার সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৪. টিনিটাস: দীর্ঘক্ষণ উচ্চশব্দে ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানে সারাক্ষণ ভোঁ ভোঁ বা শাঁ শাঁ শব্দ হতে পারে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘টিনিটাস’ বলে। এটি অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৫. মাথা ঘোরা বা ভার্টিগো: কানের ভেতরের অংশ আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। ইয়ারবাড থেকে নির্গত অতিরিক্ত শব্দতরঙ্গ বা প্রেশার অনেক সময় কানের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা বোধ হতে পারে।
সতর্ক থাকার উপায়
৬০/৬০ নিয়ম: ভলিউম সর্বোচ্চ ৬০% রাখুন এবং দিনে একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার করবেন না।
নিয়মিত পরিষ্কার: সপ্তাহে অন্তত একবার অ্যালকোহল প্যাড বা নরম কাপড় দিয়ে ইয়ারবাড পরিষ্কার করুন।
ইয়ারফোন বনাম ইয়ারবাড: সম্ভব হলে কানের ভেতর ঢোকানো ইয়ারবাডের বদলে কানের ওপর থাকে এমন ওভার-ইয়ার হেডফোন ব্যবহার করুন।
অন্যেরটা ব্যবহার না করা: কানের হাইজিন বজায় রাখতে নিজের ইয়ারবাড কাউকে দেবেন না বা অন্যেরটা ব্যবহার করবেন না।