বিভিন্ন গণআন্দোলনে নারীরা বরাবরই সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আন্দোলনের অগ্রভাগেও নারীরাই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সব সময়ই নারীদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জুলাইয়ের আন্দোলনে দেখেছি, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনাই আন্দোলনের বড় স্পার্ক হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ও তরুণীরা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজন নারী শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাদের স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম।
জুলাই আন্দোলনের পর একটি প্রশ্ন বারবার উঠেছে, আন্দোলনে সক্রিয় নারীরা পরে রাজনীতির মাঠে ততটা দৃশ্যমান কেন নয়। নাহিদ ইসলামের মতে, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই অনেক নারী আন্দোলনের পর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পর আমরা সারাদেশে পদযাত্রা করেছি, সেখানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের ভেতরে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, কিন্তু পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতায় তারা সামনে আসতে পারেননি।’
নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সাইবার বুলিং বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনলাইনে নারীদের লক্ষ্য করে এমন এক ধরনের আক্রমণাত্মক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা অনেক সময় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়।’
তিনি জানান, সাইবার বুলিংয়ের কারণে অনেক নারী কর্মী রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি এনসিপির ঢাকার ধানমন্ডি থানা এলাকার এক নারী কর্মী অনলাইনে অপমান ও হয়রানির কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সব বাধা সত্ত্বেও দেশের নারীদের মধ্যে পরিবর্তন, সংস্কার ও অধিকার সচেতনতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে মনে করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের হয়ে নারীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনী পরিস্থিতি বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’
এ সময় জাতীয় নাহিদ ইসলাম জাতীয় নারী শক্তির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। জাতীয় নারী শক্তির আহবায়ক হিসাবে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব হিসেবে মাহমুদা মিতু ও মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়।