নিরপেক্ষতার খাতিরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনি এ কথা জানান।
ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে তার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে বলেন, ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে জাতীয় সংসদ।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পিকারকে বলেন, ‘আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নয়। আপনারা এই সংসদের স্পিকার।’
এরপর বিরোধীদলের প্রধান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের এই সংসদ চব্বিশের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ। এই দেশের সংসদ ও সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময় কার্যকর ছিল। বেশির ভাগ সময়ে এই সংসদ ছিল ডামি সংসদ। এইখানে যারা অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকেই সুবিচার করতে পারেনি। আপনি ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন আপনি সকলের। আমরা মনে করি, আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধীদল আলাদা কিছু হবে না।’
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সর্বসম্মতিক্রমে ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা কায়সার কামাল।
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সরকার দলীয় জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়নটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। তিনি এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান সভাপতি।
এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান সভাপতি। নুরুল ইসলাম প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সমর্থন করেন আরেক সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। এতে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর বিক্রম’ অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবও ছিলেন তিনি।
তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।