গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনিসংহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে মাসুদা খাতুন নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, শিশুটি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতে নমুনা পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে জেলায় মোট আক্রান্ত ৩৪৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১২ জন ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন। চিকিৎসকদের মতে, জেলায় হাম পরিস্থিতির বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার এই শিশুটি আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটে পরিবার তা পারেনি। অবশেষে শুক্রবার ভোরে শিশুটি মারা যায়।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশু মারা গেছে। ময়মনসিংহের স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং অসচেতনতার কারণে অনেক সময় গ্রামীণ এলাকার শিশুরা এ ধরনের রোগে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।
এছাড়া রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, বগুড়া, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে হাম উপসর্গের রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। অভিভাবকদের মধ্যে হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের অধিকাংশেরই নিয়মিত টিকা নেওয়া ছিল না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে দেশে আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। এই টিকা দেওয়া হবে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভ্যাকসিন সংক্রান্ত মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল হয়েছে।