আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠছে জাল নোট কারবারি চক্র। এই অসাধু সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ করতে এবং সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনকালে ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার এই কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হওয়ায় এই সুযোগটিকে কাজে লাগাতে চায় জাল নোটের কারবারিরা। ডিএমপি কমিশনার জানান, এসব চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তাদের সমূলে উৎপাটন করতে এবং আইনের আওতায় আনতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অজ্ঞতা বা অসাবধানতাবশত কোনো বিক্রেতা যেন জাল নোটের শিকার না হন, সেজন্য প্রতিটি পশুর হাটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনারের তথ্যমতে, প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে লেনদেনের সময় সহজেই নোটের সত্যতা যাচাই করা যাবে।
রাজধানীর অন্যতম বৃহত্তম গাবতলী পশুর হাট এবং এর আশপাশের প্রধান সড়কগুলো ঘিরে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। হাটে আসা পাইকার এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা সিসিটিভি এবং পুলিশি টহলের আওতায় থাকবে। হাটকেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা চাঁদাবাজি ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাধারণত ঈদের আগে চক্রগুলো নতুন ও ঝকঝকে জাল নোট বাজারে ছাড়ে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, শুধু হাট নয়, হাটের বাইরের ছোটখাটো কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা যদি সফলভাবে কার্যকর হয়, তবেই পশুর হাটে লেনদেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে।