বাসা-বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ও লাইনের গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকেত আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রোববার (১০ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বহুবার টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। যারা সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাদের সিলিন্ডার বাসার বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ পাশাপাশি গ্যাসের কোনো লিকেজ আছে কিনা, তা আগে থেকেই পরীক্ষা করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন ভোরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহকর্তা গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে পরিবারের সবাই দগ্ধ হন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। শিশুসহ পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বিস্ফোরণের সময় বাসার দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। বর্তমানে দগ্ধদের সর্বাত্মক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর্থিক কোনো সমস্যা হলে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। ’
সরকারি লাইনের গ্যাস ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সংযোগ নেওয়ার সময় ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোথাও লিকেজ আছে কিনা। এছাড়া দরজা-জানালা খুলে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হবে। অনেক পরিবার চুলার নিচে সিলিন্ডার রেখে দেয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে বারবার গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে কোম্পানির মাধ্যমে গ্যাস লাইনের লিকেজ পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেন তিনি।