গত ১০ মে ‘নাগরিক প্রতিদিন’-এর অনুসন্ধানী শাখা ‘টিম ব্লুপ্রিন্ট’-এ প্রকাশিত ‘সী পার্ল বীচ রিসোর্টের ৬০০ কোটি টাকা বন্ড কেলেঙ্কারি’ শীর্ষক সংবাদের বিষয়ে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে সী পার্ল বীচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।
সী পার্ল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সী পার্ল কর্তৃপক্ষ ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ- আইসিবি'র অনুকূলে ৩২৫ কোটি টাকার ২০ শতাংশ কনভার্টিবল সিকিউরড বন্ড ইস্যু করেছিল।
কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি এবং মেরিন ড্রাইভ সড়ক দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে তারা সুদ মওকুফের আবেদন জানায়।
সী পার্ল-এর দাবি, আইসিবি-এর ৫৯২ ও ৫৯৭তম বোর্ড সভায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিএসইসি, দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বন্ড ট্রাস্টির অনাপত্তি নেওয়া হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করে।
তবে টিম ব্লুপ্রিন্ট-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইসিবি-এর ৬১৬তম বোর্ড সভায় পূর্ববর্তী সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছে সুদসহ ৪৪৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। সী পার্ল বীচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। বর্তমানে বিষয়টি উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিচারাধীন কোনো বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি; বরং একটি রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ বছরের পর বছর নিষ্পত্তি না হওয়ার তথ্যটি জনস্বার্থে তুলে ধরা হয়েছে। বন্ড নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে ওঠা প্রশ্ন ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
‘নাগরিক প্রতিদিন’ সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। সংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।