দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসনসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন—ইকবাল হাসান মাহমুদ (রাজশাহী ও নাটোর), ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়), আব্দুল আউয়াল মিন্টু (লক্ষ্মীপুর), নিতাই রায় চৌধুরী (চুয়াডাঙ্গা), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (হবিগঞ্জ), আরিফুল হক চৌধুরী (মৌলভীবাজার), মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (চট্টগ্রাম), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা), আসাদুল হাবিব দুলু (ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর), মো. আসাদুজ্জামান (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) এবং জাকারিয়া তাহের (ফেনী ও নোয়াখালী)।
এ ছাড়া সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, সাচিং প্রুকে কক্সবাজার, মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, মিজ্ শামা ওবায়েদ ইসলামকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি, হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এবং মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে মীর শাহে আলম পেয়েছেন রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; মিজ্ ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইয়াসের খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ; আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি; মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ; আলহাজ্ব মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
গেজেটে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে তারা তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন বলেও গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।