দেশে সব ধরনের ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং হিটেড টোব্যাকোসহ বিকাশমান তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার-নিয়ন্ত্রণ-সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
নতুন এই অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচকেও তামাকজাত পণ্য হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি সরকার যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কোনো পণ্যকেও এই তালিকায় যুক্ত করার- ক্ষমতা রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, লিফট, রেস্টুরেন্ট এবং গণপরিবহনের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষার সারিসহ সব ধরণের জনসমাগমস্থলে ধূমপান ও তামাক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। ভবনের বারান্দা, প্রবেশ পথ এবং ভবন সংশ্লিষ্ট উন্মুক্ত আঙিনাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। জনসমাগমস্থলে ধূমপানের জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ই-সিগারেট ও ভ্যাপের ক্ষেত্রে। এ ধরনের পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ ও বিক্রি এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরণের প্রচার ও বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ অধ্যাদেশে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তামাক কোম্পানিগুলোর সিএসআর কার্যক্রম বা কোনো অনুষ্ঠানে তাদের আর্থিক সহায়তা গ্রহণও এখন থেকে অবৈধ।
বিক্রয় পর্যায়েও আনা হয়েছে কড়াকড়ি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া তামাকের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে ১৯৭৫ সালের ‘বিডি ম্যানুফ্যাকচার (প্রোহিবিশন) অর্ডিন্যান্স’। এর ফলে কুম্ভি ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও বিপণন এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।