প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মন্ত্যব করে বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা তহবিলের ‘নাটকীয় হ্রাস’ এর বিষয়টি তুলে ধরেন এবং শিবিরগুলোতে আত্মনির্ভরশীলতা ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এ সময় ড. ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিবির পরিদর্শন উল্লেখযোগ্য। তবু সংকটটি এখনো যথাযথ মনোযোগ পাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এরইমধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সমস্যার শুরু হয়েছে মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসার কথা। শিবিরে এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। যাদের প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার রয়েছে। এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।’
বৈঠকে ভাসানচরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে মিশে গেছে, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন জানান, সদ্য নিযুক্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন এবং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সালের পর থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা নির্বাচন পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আমাদের সব প্রচেষ্টা। প্রথমবার ভোট দিতে আসা ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা প্রক্রিয়াটিকে আনন্দময়, উৎসবমুখর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’