৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ দশমিক সাত শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত। এমন তথ্যই উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি গবেষণায়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০ দশমিক সাত শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, সাত দশমিক সাত শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ও এক দশমিক দুই শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবির সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।
টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, এতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত ও সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এ সময় জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবির মতে, সরকার পতনের পর, আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।
গবেষণায় দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।