বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছিল, যাতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করতে পারেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করতে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘মীর জাফরের ভূমিকা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জাতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছিল। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সরকার যদি স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে চায়, তাহলে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়েছিল—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট। তিনি দাবি করেন, ওই গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ।
তিনি বলেন, এই গণভোটের ফলাফলকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া এবং সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিচালনা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছে, যা সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইঙ্গিত ছাড়া সম্ভব নয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার জন্য বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
আদালতের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আদালত স্বাধীন হলেও অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানসিকভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জনগণকে সংগঠিত করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোটে যে জনমত পাওয়া গেছে, তা বাস্তবায়ন করা গণতন্ত্র, নৈতিকতা এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ। তাই সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং গণভোটে পাওয়া জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।