যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফরের এক সপ্তাহ পার না হতেই ‘পুরোনো বন্ধু’ ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বাণিজ্য যুদ্ধ, সংঘাত ও জ্বালানি সংকটে জর্জরিত বিশ্বে বেইজিং নিজেকে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, এই আয়োজন তারই অংশ।
ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের জানান, পুতিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছাবেন এবং বুধবার সকালে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয়ের পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন নিয়েও আলোচনা করবেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে চাপ দিতে পশ্চিমা বিশ্ব বেইজিংয়ের প্রতি বারবার আহ্বান জানালেও চীন ও রাশিয়া পুতিনের দুই দিনের সফরকে তাদের ‘সবসময়ের’ অংশীদারত্বের আরও একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছে। চীনে এটি পুতিনের ২৫তম সফর।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চীন নিজেকে শান্তি মধ্যস্থতাকারী এবং নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে দাবি করলেও পুতিন জানিয়েছেন, তারা একে অপরের ‘মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট’ বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সমর্থন বজায় রাখছেন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ এই অর্থনীতির সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি চুক্তির লক্ষ্যেই পুতিনের এই সফর বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ইয়ান স্টোরি বলেন, ‘শি-পুতিন শীর্ষ সম্মেলন বিশ্বের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দেবে, চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্ব দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে অটুট রয়েছে। তাদের মধ্যে ফাটল ধরানোর যেকোনো মার্কিন চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্পের চীন সফরের পরপরই পুতিন এই সফর করছেন। ট্রাম্পের সেই সফরে ইতিবাচক আবহ তৈরি হলেও বড় ধরনের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি হয়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা কিংবা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের যখন হিমশিম অবস্থা, ঠিক তখন একের পর এক বিদেশি নেতাদের আতিথেয়তা দিয়ে নিজেকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে চীন।