আখতার হোসেনের হুঁশিয়ারি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো সহযোগী সংগঠনের কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও তাদের সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৯টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং মিছিল করছে।
আখতার হোসেন বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মধ্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২৪-এর রক্তের মানে শুধু হাসিনা পালিয়ে যাওয়া নয়; ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর জাতীয় মসজিদের ইমামও পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা কার্যত অগোছালো ও অস্থিতিশীল অবস্থায় চলে গেছে। ৫ আগস্টের আগে যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদের অধিকাংশ প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। তাদের একটি সাজানো নির্বাচন ও সিলেকশনের মাধ্যমে বসানো হয়েছিল। পরে এই প্রতিনিধিরা আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা ও নানা অনিয়মের কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা হারিয়েছে স্থানীয় সরকার।’
এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের পরিবেশ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও সরকার এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি। এর ফলে সাধারণ নাগরিকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার কাঠামো দখল করার চেষ্টা করছে। সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা সবাই দলীয় লোক।
আখতার হোসেন এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেন। প্রথমত, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যাবে না; বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তৃতীয়ত, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের প্রশাসকরা ভবিষ্যতে সেই একই এলাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না; সরকারকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।
চতুর্থত, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং এ অধ্যাদেশ সংসদে পাস করতে হবে।
পঞ্চমত, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে; নির্বাচন অবশ্যই ফ্রি, ফেয়ার ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
শেষে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।