একজন নারীকে রাতে বাসা থেকে আটক করা এটি কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়েতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।
ভোলার বিবি সাওদা নামের জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের এক কর্মী আটকের ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা স্বাক্ষরিত জামায়াত ইসলামীর সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলমের পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে।
এতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, সাইবার ক্রাইম সেলকে ব্যবহার করে ফেসবুক পোস্টের জন্য নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে এবং জেল হাজতে আটক রাখার আদেশ চাওয়া হয়েছে। তার ‘অপরাধ’ — সরকারের নীতির সমালোচনা করা।
তিনি আরও বলেন, রাতের গভীরে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া কোন সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। চরমভাবে নারীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হয় অথচ নারীর গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এটা ভয়ের এক শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত। বিপ্লোপত্তর দেশে নারী গ্রেপ্তার করার মতো ঘটনা আমরা মেনে নেব না।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ঘটনা সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আমরা অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের সব নারীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ভোলার বিবি সাওদা (৩৭) নামে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কর্মী, যিনি ফেসবুকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছিলেন। গত ৫ এপ্রিল রাতে ভোলা সদর মডেল থানার অধীনে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে এবং জেল হাজতে আটক রাখার আদেশ চাওয়া হয়েছে।