ফুটবল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে মানবিক এক লড়াইয়ে একসঙ্গে দাঁড়ালেন দুই তারকা। বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব থাকা রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার পাশে দাঁড়ালেন বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের।
সম্প্রতি স্পেন ও মিশরের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন ইয়ামাল। তার এই অবস্থান ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দেয়, আর এবার সেই সাহসী কণ্ঠকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন ভিনিসিয়ুস।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিউস বলেন, ‘ইয়ামালের মতো তরুণরা যখন এসব বিষয়ে কথা বলে, তখন তা শুধু ফুটবলেই নয়, পুরো বিশ্বেই প্রভাব ফেলে। আমরা সবাই মিলে এই ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।’
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্পেনের এস্পানিওলের মাঠে আয়োজিত স্পেন বনাম মিসরের ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ চলাকালীন একাংশ সমর্থক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক স্লোগান দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইয়ামাল। তিনি লেখেন, ‘ফুটবলের মাঠে ধর্মকে উপহাস করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদের পরিচয়।’
নিজেকে একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘যে লাফাবে না, সেই মুসলিম। এই ধরনের স্লোগান শোনা অত্যন্ত অসম্মানজনক।’
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য বিষয়টি নতুন নয়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাকে একাধিকবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়েছে। লা লিগা থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিভিন্ন মঞ্চে তাকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচেও তাকে ‘বানর’ বলে ডাকার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিউস বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা সবসময়ই কষ্টের। কারণ আমরা জানি, আমাদের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবার এক হয়ে এই সমস্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হয়।’
ভবিষ্যতের জন্য একটি বৈষম্যহীন ফুটবল বিশ্ব গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে ভিনিসিউস বলেন, ‘স্পেন, জার্মানি বা পর্তুগালকে সরাসরি বর্ণবাদী দেশ বলা যায় না। কিন্তু এসব জায়গায়ও বর্ণবাদী মানুষ আছে, যেমনটা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দেখা যায়।’
ক্লাবের লড়াই যেখানে চিরন্তন, সেখানে মানবিকতার জায়গায় এসে এক হওয়াই যেন বড় বার্তা। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও, বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ভিনিসিয়ুস ও ইয়ামালের এই সংহতি ফুটবল বিশ্বে নতুন এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করল।