শহিদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেছেন তিনি। বাণীতে তিনি শহিদ জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পূণ:প্রবর্তনকারী, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এই কালজয়ী দর্শনের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার, অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকীতে আমি তার অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শহিদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।”
বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-উত্তর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক শাসনের কারণে দেশ চরম অরাজকতার মধ্যে পতিত হয়েছিল। মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একদলীয় দু:শাসন কায়েম করা হয়েছিল। সেই ক্রান্তিকালে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেন এবং দেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেডফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে জাতির ইতিহাসে এক বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। ২৬শে মার্চ তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে দেশের তরুণ ছাত্র, শ্রমিক ও যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসের শক্তি প্রতিহত করে দেশবাসী বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়।
শহিদ জিয়ার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে চক্রান্তকারীরা সফল হয়নি, কারণ জিয়াউর রহমান জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরূক আছেন। পরবর্তীতে তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া আপোসহীন নেতৃত্ব দিয়ে শহিদ জিয়ার আদর্শ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন।
বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনব্যবস্থাকে ‘ফ্যাসিবাদ’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গুম, খুন, নির্যাতন ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরমতসহিষ্ণুতাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।
এ ছাড়া বাণীতে বিএনপি মহাসচিব শনিবার (৩০ মে) শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে উদযাপনের জন্য দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহসহ সব স্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।